মে ২৪, ২০১৯ ৯:১৫ পূর্বাহ্ণ
Home / SL News / ব্যাংক ঋণ কখন খেলাপি হবে

ব্যাংক ঋণ কখন খেলাপি হবে

বাংলাদেশ ব্যাংক গতমাসে খেলাপিঋণের নতুন নীতিমালা জারি করে। আগামী মাসের ৩০ তারিখ থেকে এ নীতিমালা কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী এক বছরের আগে কেউ খেলাপি গ্রাহক হবে না।

বর্তমানে কোনো ঋণের কিস্তি তিন মাস অনাদায়ী হলে সাব-স্ট্যান্ডার্ড, ছয় মাস অনাদায়ী হলে সন্দেহজনক এবং ৯ মাস মেয়াদোত্তীর্ণ হলে মন্দমানে খেলাপি হিসেবে শ্রেণিকরণ করা হয়। নতুন নীতিমালায় খেলাপি ঋণ হিসাবায়নের এ তিনটি ক্ষেত্রেই সময় বেড়েছে বলে নতুন প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে।

দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সব ধরনের চলতি ঋণ, ডিমান্ড ঋণ, ফিক্সড টার্ম লোন অথবা যে কোনো ঋণের কিস্তি তিন মাসের বেশি, কিন্তু ৯ মাসের কম অনাদায়ী থাকলে তা সাব-স্ট্যান্ডার্ড ঋণ হিসেবে হিসাবায়ন করা হবে। আগে তিন মাসের বেশি অনাদায়ী থাকলে সাব-স্ট্যান্ডার্ড গণনা করা হতো।

৯ মাসের বেশি কিন্তু ১২ মাসের কম অনাদায়ী থাকলে তা ডাউটফুল লোন বা সন্দেহজনক ঋণ হবে। আগে ৬ মাসের বেশি ৯ মাসের কম অনাদায়ী ঋণকে ডাউটফুল লোন বা সন্দেহজনক ঋণ বলা হতো।

আর ১২ মাসের বেশি অনাদায়ী ঋণ ব্যাড ডেবট বা মন্দ ঋণ হবে। আগে ৯ মাসের বেশি অনাদায়ী ঋণ মন্দ ঋণ হিসেবে বিবেচিত হতো। তবে প্রজ্ঞাপনে সাব-স্ট্যান্ডার্ড ঋণের একটা অংশ খেলাপি ঋণ হিসেবে দেখাতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগে সাব-স্ট্যান্ডার্ড ঋণ খেলাপি ঋণ হিসেবে গণ্য করা হতো না।

নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাংকের অশ্রেণিকৃত বা নিয়মিত ঋণের বিপরীতে দশমিক ২৫ থেকে পাঁচ শতাংশ হারে প্রভিশন রাখতে হয়। নিম্নমান বা সাব স্ট্যান্ডার্ড ঋণের বিপরীতে রাখতে হয় ২০ শতাংশ, সন্দেহজনক ঋণের বিপরীতে ৫০ শতাংশ এবং মন্দ বা কুঋণের বিপরীতে ১০০ শতাংশ প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হয়। ব্যাংকের আয় খাত থেকে অর্থ এনে এ প্রভিশন সংরক্ষণ করা হয়। খেলাপি ঋণ বাড়লে, আর সে অনুযায়ী ব্যাংকের আয় না হলে প্রভিশন ঘাটতি দেখা দেয়।

ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, প্রভিশন ঘাটতি থাকলে শেয়ারহোল্ডাদের জন্য কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারে না সংশ্লিষ্ট ব্যাংক। নতুন নীতিমালা কার্যকর হলে একদিকে ঋণ খেলাপিরা বাড়তি সুবিধা পাবে, অন্যদিকে ব্যাংকগুলো প্রভিশন রাখতে বাড়তি সময় পাবে।

এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে ব্যাংকিং খাতে খেলাপিঋণ কমিয়ে আনার অংশ হিসেবে অবলোপনে (রাইট অফ) ছাড় দেওয়ার গাইড লাইন করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

নতুন নীতিমালা বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যেসব গ্রাহক খেলাপি হচ্ছে সরকার তাদেরকে বিভিন্ন রকম সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে। অথচ যারা নিয়মিত ঋণ পরিশোধ করছেন সেসব ভাল গ্রাহকের জন্য কোন ধরনের প্রণোদনার ব্যবস্থা নেই। ফলে নিয়মিত ঋণ পরিশোধকারী অনেকের ইচ্ছা করে খেলাপি হতে চাচ্ছেন। আর নতুন নীতিমালাও আরো খেলাপি ঋণ বাড়াবে কি না সে বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

ইত্তেফাক/এমআই