মে ২৪, ২০১৯ ৯:৫৩ পূর্বাহ্ণ
Home / BREAKING NEWS / ফখরুলের সংসদে না যাওয়ার ব্যাখ্যা চাইলেন গয়েশ্বর

ফখরুলের সংসদে না যাওয়ার ব্যাখ্যা চাইলেন গয়েশ্বর

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সংসদে না যাওয়ার কারণ কি তা জানতে চেয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, ‘কি তার চমক? দলীয় ৬ এমপির মধ্যে পাঁচজন সংসদে গেলেও ফখরুল ইসলাম আলমগীর কেন যাননি আশা করি তার ব্যাখ্যা তিনি দেবেন। হয়তো পরবর্তী সময়ে আমরা জানতে পারবো এটি তার একটি চমক।’

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে জাতীয়তাবাদী নবীন দল আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় গয়েশ্বর রায় বলেন, ‘প্রশ্ন উঠেছে বিএনপির সবাই সংসদে গেল মহাসচিব গেলো না কেন? এটা আমার কাছেও খটকা লাগে। দলের সিদ্ধান্তে সবাই গেলে মহাসচিব যাবেন না কেন? আলাদা কারও ভাল থাকা বা আলাদা কারও হিরো হওয়ার সুযোগ নেই। তাই তিনি কেন সংসদে যোগ দিলেন না নিশ্চয়ই সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দেবেন।’

গয়েশ্বর বলেন, ‘দেশ-বিদেশে খালেদা জিয়াকে হেয় করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে তাকে কারাগারে রাখা হয়েছে। ১৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা তিনদিনের মধ্যে জামিনে পেলেন, আর খালেদা জিয়া ১৫ মাস পরও জামিন পাচ্ছেন না কেন? বিচারপতিদের সঙ্গে কি আমাদের কোন শত্রুতা আছে? তাহলে তারা কেন এ রকম আচরণ করছেন? তারা কি এ রকম করছেন সরকারের নির্দেশে? সরকারের নির্দেশ না মানলে তাদের চাকরি থাকবে না?’

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘বিএনপির এমপিদের সংসদে যোগদানের সঙ্গে খালেদা জিয়ার মুক্তির কোন সম্পর্ক নেই। দলীয় সিদ্ধান্তের আগে জাহিদুর রহমান শপথ নেওয়ায় তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। পরবর্তীতে বাকিরা দলীয় সিদ্ধান্তে শপথ নিয়েছেন। আমাদের সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক না বেঠিক এর জন্য অপেক্ষা করতে হবে। তবে আমাদের সবাইকে এক সুরে কথা বলতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ আর বিএনপির মধ্যে পার্থক্য আছে। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা যা বলেন, যে গ্রামে বিদ্যুত নেই সেখানকার চায়ের দোকানেও নেতাকর্মীরা একই কথা বলেন। কিন্তু আমরা একই বিষয়ে একেকজন একেক কথা বলি। অর্থাৎ আমাদের মধ্যে চিন্তা-ভাবনার সমন্বয়ের অভাব। এ অভাবের কারণে কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়।’

গয়েশ্বর বলেন, ‘দেশবাসী বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে মাঠে নামার জন্য অপেক্ষা করছে। আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। যখন মাঠে নামার জন্য ডাক দেবো তখনই সবাই নেমে যাবেন। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী আমরা কর্মসূচী দিলে তারা আমাদের সঙ্গে থাকবে। কারণ বিএনপি জনগণের দল। জনস্বার্থেই বিএনপি কর্মসূচী পালন করে।’

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি হুমায়ুন আহমেদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন, আয়োজক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা প্রমুখ।

ইত্তেফাক/নূহু