মে ২৪, ২০১৯ ৯:৫৬ পূর্বাহ্ণ
Home / BREAKING NEWS / বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসির কুশপুতুল দাহ

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসির কুশপুতুল দাহ

রিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা করেছে। শনিবার সকালে তারা ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ কর্মসূচি ও প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। এর আগে শুক্রবার রাতে ভিসি প্রফেসর ড. ইমামুল হক তার বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেও সেটা শিক্ষার্থীরা কৌশল হিসেবে উল্লেখ করেন। দুঃখ প্রকাশের নামে ভিসি কৌশলী বক্তব্য দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তারা ভিসির এমন দুঃখ প্রকাশকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। শনিবার বিকেলে প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়েছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। ইতোমধ্যে ভিসির বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদী প্যারোডি গান তৈরী করে ফেসবুকে আপলোড করেছে শিক্ষার্থীরা। এসব গান ফেসবুকে ব্যাপকভাবে শেয়ার করে ভাইরাল করছেন তারা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, ভিসি ক্ষমা প্রার্থনা করে যে দায়সারা বক্তব্য দিয়েছেন তা অত্যন্ত চতুরতার সাথে করা হয়েছে। তিনি আমাদের রাজাকারের সন্তান বলে এখন তা অস্বীকার করছেন। তার বক্তব্য নাকি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে তিনি সত্যকে আড়ালের চেষ্টা করছেন। তাকে নিঃশর্তভাবে ক্ষমা চেয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চলে যেতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। অন্যথায় শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন অব্যাহত রাখবেন বলেও উল্লেখ করেন।

শুক্রবার রাতে ঢাকার কলাবাগানে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের লিয়াজো অফিসে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের সভার মাধ্যমে ভিসি প্রফেসর ড. ইমামুল হক আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে দেয়া তার বক্তব্য নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

সভা শেষে শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ভিসি’র উদ্ধৃতি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ রুমি স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো ই-মেইল বার্তায় উল্লেখ করা হয়-২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিবেটিং সোসাইটির অনুষ্ঠানে আমার প্রদত্ত বক্তব্যের একটি বাক্যকে কেন্দ্র করে সস্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। আমি এ বিষয়ে দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে চাই-আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরকে ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলে সম্বোধন করিনি বরং যারা মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপনের অনুষ্ঠানে বাধা সৃষ্টি করতে চায়, তাদের এহেন কার্যক্রম রাজাকারসদৃশ মর্মে মন্তব্য করেছি। উক্ত ‘শব্দটি’ আমি কোনোভাবেই আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদেরকে উদ্দেশ করে বলিনি। এরপরেও যদি আমার ওই বক্তব্যে কোনো শিক্ষার্থী মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে থাকে, তবে তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল একাডেমিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে চলমান রাখার স্বার্থে আমি সকল শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা কামনা করছি।

ওই বার্তায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে-সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান অচলাবস্থা নিরসনে খুব শিগগিরই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কেননা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার অনেক ক্ষতি হচ্ছে। ক্লাস ও পরীক্ষাগুলো পিছিয়ে যাচ্ছে। এভাবে দীর্ঘসময় ক্যাম্পাস বন্ধ থাকলে আরও পিছিয়ে পড়তে হবে। যা পরবর্তীতে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে না। তাই খুব শিঘ্রই বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, সুধিজন, মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিকসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সাথে আলোচনায় বসা হবে। সকলের সহযোগিতা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন পরিস্থিতির সমাধান করা হবে। এজন্য সিন্ডিকেট সদস্যদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্ট্রার ড. হাসিনুর রহমান বলেন, খুব শিঘ্রই তারা সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে বসার ব্যবস্থা করবেন।

উল্লেখ্য, ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের আমন্ত্রন না জানানোর প্রতিবাদ করায় শিক্ষার্থীদের রাজাকারের বাচ্চা বলে গালি দেন উপাচার্য। এর প্রতিবাদে ওইদিন থেকেই ক্যাম্পাসে ভিসি’র অপসারনসহ ১০ দফা দাবী আদায়ে বিক্ষোভ করে আসছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাসে উদ্ভূতকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন ও শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তার স্বার্থে গত ২৭ মার্চ দিবাগত গভীর রাতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষনা করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। একইসাথে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়। শিক্ষার্থীরা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে হল ত্যাগ না করার ঘোষণা দেয়ায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ববি’র শেখ হাসিনা হলের ছাত্রীদের জোরপূর্বক হল থেকে বের করে দিয়ে ওই হলের পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ক্যান্টিন বন্ধ করে দেয়া হয়। একপর্যায়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে বের করে দেয়া ছাত্রীদের হলে ফিরিয়ে নিয়ে পানির সংযোগ স্থাপন করে দিতে বাধ্য হয়েছেন হলের দায়িত্বপ্রাপ্তরা।

অপরদিকে ভিসির পদত্যাগসহ ১০ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ববি’র চলমান শান্তিপূর্ণ আন্দোলন কর্মসূচিতে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। পরিষদের যুগ্ম-আহবায়ক রাশেদ খান তার বিবৃতিতে বলেন, ববি’র শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনের সাথে আমরা সাংগঠনিকভাবে একাত্মতা পোষণ করছি। এছাড়াও পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনির্বাচিত ভিপি বরিশালের কৃতি সন্তান নুরুল হক তার বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, ববি’র ভিসি’র বিদ্বেষমূলক (রাজাকারের বাচ্চা) বক্তব্যে শুধু ওই বিশ্ববিদ্যালয়েরই নয় পুরো দেশের ছাত্রসমাজকে অপমানিত করা হয়েছে।

সূত্রমতে, শুক্রবার রাত আটটার দিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ভিসি’র অপসারন দাবীতে ক্যাম্পাসে মশাল মিছিল করে ভিসি’র কুশপুতুল দাহ করেন। ববি’র আন্দোলনরত শিক্ষার্থী আলামিন বলেন, রাজাকারের বাচ্চা বলে গালি দেয়ায় ভিসি নিজে স্ব-শরীরে এসে শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাইবেন এবং তিনি তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিবেন। পাশাপাশি তাকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করতে হবে। এ দাবি না মানা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বনানীতে অগ্নিকান্ডে নিহতের ঘটনায় কালোব্যাজ ধারণ কর্মসূচিও পালন করেছেন।